ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সঙ্গীতশিল্পী তাহসানের মায়ের গাড়িচালক ছিলেন আবেদ আলী

জনপ্রিয় অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খানের মা ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম যখন পিএসসি’র চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই সময় তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ছিলেন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত সৈয়দ আবেদ আলী।

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকও গণমাধ্যমকে দেওয়া তার বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

জানা গেছে, প্রফেসর ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ছিলেন দেশের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন’-এর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত অষ্টম চেয়ারম্যান। ২০০২ সালের ৯ মে তিনি পিএসসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০৭ সালের ৭ মে পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

এদিকে, সৈয়দ আবেদ আলী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পিএসিতে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন। প্রফেসর ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম যখন পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন, ততদিনে সৈয়দ আবেদ আলী প্রমোশন লাভ করে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হন। সেই সময় থেকেই মূলত সৈয়দ আবেদ আলী প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দীর্ঘসময় ধরে তিনি ঐ চক্রের সঙ্গে প্রশ্নফাঁস করে আসছিলেন। তবে, ওই সময়ে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিলেন।

এরপর ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিলে নন-ক্যাডার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়য়ের ‘সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার’ পদে লিখিত পরীক্ষায় লিখিত উত্তরপত্র সরবরাহ করার অভিযোগে সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী তার স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়। ডাক বিভাগ সৈয়দ আবেদ আলীর স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি গ্রহণের জন্য কাউকে না পেয়ে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণীটি পিএসসিতে ফেরত পাঠায়। একইভাবে সাময়িক বরখাস্তের আদেশটিও ফেরত আসে।

প্রসঙ্গত, ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান ও ১৯৬৭ সালে স্নাতক পাশ করেন এবং ১৯৭৭ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

এ বিষয়ে পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র জনপ্রিয় অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এক সাক্ষাৎকারে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান, ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ও এটিএম আহমেদুল হক চৌধুরী যখন পিএসসি চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন আবেদ পিএসসির চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক ছিল। ইকরাম আহমদ যখন চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন সে বরখাস্ত হয়। পরে তাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়।

উল্লেখ্য, পিএসসি’র প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে করা মামলায় ইতোমধ্যে আলোচিত আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তাদের মধ্যে পিএসসির উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক ও আবেদের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামও রয়েছেন। রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

ধারণা ছিল একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী

সঙ্গীতশিল্পী তাহসানের মায়ের গাড়িচালক ছিলেন আবেদ আলী

প্রকাশিত সময় :- ১২:৩৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

জনপ্রিয় অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খানের মা ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম যখন পিএসসি’র চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই সময় তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ছিলেন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত সৈয়দ আবেদ আলী।

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকও গণমাধ্যমকে দেওয়া তার বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

জানা গেছে, প্রফেসর ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ছিলেন দেশের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন’-এর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত অষ্টম চেয়ারম্যান। ২০০২ সালের ৯ মে তিনি পিএসসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০৭ সালের ৭ মে পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

এদিকে, সৈয়দ আবেদ আলী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পিএসিতে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন। প্রফেসর ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম যখন পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন, ততদিনে সৈয়দ আবেদ আলী প্রমোশন লাভ করে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হন। সেই সময় থেকেই মূলত সৈয়দ আবেদ আলী প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দীর্ঘসময় ধরে তিনি ঐ চক্রের সঙ্গে প্রশ্নফাঁস করে আসছিলেন। তবে, ওই সময়ে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিলেন।

এরপর ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিলে নন-ক্যাডার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়য়ের ‘সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার’ পদে লিখিত পরীক্ষায় লিখিত উত্তরপত্র সরবরাহ করার অভিযোগে সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী তার স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়। ডাক বিভাগ সৈয়দ আবেদ আলীর স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি গ্রহণের জন্য কাউকে না পেয়ে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণীটি পিএসসিতে ফেরত পাঠায়। একইভাবে সাময়িক বরখাস্তের আদেশটিও ফেরত আসে।

প্রসঙ্গত, ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান ও ১৯৬৭ সালে স্নাতক পাশ করেন এবং ১৯৭৭ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

এ বিষয়ে পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র জনপ্রিয় অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এক সাক্ষাৎকারে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান, ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম ও এটিএম আহমেদুল হক চৌধুরী যখন পিএসসি চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন আবেদ পিএসসির চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক ছিল। ইকরাম আহমদ যখন চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন সে বরখাস্ত হয়। পরে তাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়।

উল্লেখ্য, পিএসসি’র প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে করা মামলায় ইতোমধ্যে আলোচিত আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তাদের মধ্যে পিএসসির উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক ও আবেদের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামও রয়েছেন। রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন