ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৫, ২৯ পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

https://www.newsbijoy24.com/

রংপুরে সয়াবিন তেলের সংকট: নেপথ্যে কি ডিলারদের কারসাজি?

রংপুর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরবরাহ কম এই অজুহাতে বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাজ থেকে ইচ্ছে মতো দাম নিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ লিটরের বিভিন্ন ব্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮১৮ টাকার পরিবর্তে ক্রেতাদের কাজ থেকে ৮৬০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা দরে। গত এক মাস ধরে এ অবস্থা বিরাজ করলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে করে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেশি দরে সয়াবিন তেল কিনে খেতে হচ্ছে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রংপুরের বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির ডিলারদের মধ্যে রুপ চাঁদার ভোলা, পুষ্টির খলির ফ্রেস তেলের হিরণ বাবু রয়েছেন। তারা মূলত সরবরাহ করে থাকেন সয়াবিন তেল।

রংপুর সিটি বাজারের মুদি দোকানদারেরা জানান, গত এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো তাদের চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না। এর ফলে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ক্রেতারা এক বোতলের জায়গায় ৫ বোতল নিচ্ছেন, এর ফলে সংকট আরো বেড়েছে।

সিটি বাজারের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুদি ব্যববসায়ী বলেন, ‘যেসব ডিলারদের মাধ্যমে কম্পানিগুলো বাজারে তেল সরবরাহ করে থাকে, মূলত তারাই এই সংকটের জন্য দায়ী। তারা যখন দেখে বাজারে তেলের চাহিদা বেশি তখনই তারা বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে বলে কোম্পানিগুলো ডিলারদের তেল দিচ্ছে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।’

বিকেলে সিটি বাজার গিয়ে দেখা গেছে, অনেক মুদি দোকানে সয়াবিন তেল নেই। কিছু কিছু দোকানে সামান্য পরিমাণ তেল রয়েছে। যেসব দোকানে তেল রয়েছে সেখানে দামও অনেক বেশি।

মুদি ব্যবসায়ী এক বলেন, আমি ফ্রেস তেলের ডিলারের কাছে ১০ কার্টন তেলের আগাম টাকা দিয়েছি। তিনি আমাকে মাত্র ১ কার্টন তেল সরবরাহ করেছে। আর জানিয়েছে কোম্পানি তাকে তেল দিচ্ছে না। একই অবস্থা অন্যসব কোম্পানির।

এক গৃহিণী বলেন, ‘আগে ৫ লিটারের একটি সয়াবিন তেলের বোতল ছিল ৮১৮ টাকা। এখন নিতে হচ্ছে ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায়।’

বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোকানদাররা নাকি বেশি দামে কিনেছে, সেজন্য তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

পুষ্টি তেলের ডিলার খলিল বলেন, কোম্পানিগুলো তাদের তেল সরবরাহ করতে না পারায় দোকানদারদের চাহিদা মতো তারা তেল বাজারে সরবরাহ করতে পারছে না। এই কারণে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আর ক্রেতারা চাহিদার চেয়ে বেশি করে কেনায় সংকট আরো বেড়েছে।

আপনারা এই সংকটের জন্য দায়ী এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, কোম্পানি ঠিক মতো তেল সরবরাহ করলে দাম কমে আসবে।
নিউজবিজয়২৪ডট কম/এফএইচএন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

এবার মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে সুখবর দিলো বিটিআরসি

রংপুরে সয়াবিন তেলের সংকট: নেপথ্যে কি ডিলারদের কারসাজি?

প্রকাশিত সময় :- ০৯:২১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

রংপুর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরবরাহ কম এই অজুহাতে বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাজ থেকে ইচ্ছে মতো দাম নিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ লিটরের বিভিন্ন ব্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮১৮ টাকার পরিবর্তে ক্রেতাদের কাজ থেকে ৮৬০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা দরে। গত এক মাস ধরে এ অবস্থা বিরাজ করলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে করে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেশি দরে সয়াবিন তেল কিনে খেতে হচ্ছে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রংপুরের বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির ডিলারদের মধ্যে রুপ চাঁদার ভোলা, পুষ্টির খলির ফ্রেস তেলের হিরণ বাবু রয়েছেন। তারা মূলত সরবরাহ করে থাকেন সয়াবিন তেল।

রংপুর সিটি বাজারের মুদি দোকানদারেরা জানান, গত এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো তাদের চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না। এর ফলে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ক্রেতারা এক বোতলের জায়গায় ৫ বোতল নিচ্ছেন, এর ফলে সংকট আরো বেড়েছে।

সিটি বাজারের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুদি ব্যববসায়ী বলেন, ‘যেসব ডিলারদের মাধ্যমে কম্পানিগুলো বাজারে তেল সরবরাহ করে থাকে, মূলত তারাই এই সংকটের জন্য দায়ী। তারা যখন দেখে বাজারে তেলের চাহিদা বেশি তখনই তারা বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে বলে কোম্পানিগুলো ডিলারদের তেল দিচ্ছে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।’

বিকেলে সিটি বাজার গিয়ে দেখা গেছে, অনেক মুদি দোকানে সয়াবিন তেল নেই। কিছু কিছু দোকানে সামান্য পরিমাণ তেল রয়েছে। যেসব দোকানে তেল রয়েছে সেখানে দামও অনেক বেশি।

মুদি ব্যবসায়ী এক বলেন, আমি ফ্রেস তেলের ডিলারের কাছে ১০ কার্টন তেলের আগাম টাকা দিয়েছি। তিনি আমাকে মাত্র ১ কার্টন তেল সরবরাহ করেছে। আর জানিয়েছে কোম্পানি তাকে তেল দিচ্ছে না। একই অবস্থা অন্যসব কোম্পানির।

এক গৃহিণী বলেন, ‘আগে ৫ লিটারের একটি সয়াবিন তেলের বোতল ছিল ৮১৮ টাকা। এখন নিতে হচ্ছে ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায়।’

বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোকানদাররা নাকি বেশি দামে কিনেছে, সেজন্য তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

পুষ্টি তেলের ডিলার খলিল বলেন, কোম্পানিগুলো তাদের তেল সরবরাহ করতে না পারায় দোকানদারদের চাহিদা মতো তারা তেল বাজারে সরবরাহ করতে পারছে না। এই কারণে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আর ক্রেতারা চাহিদার চেয়ে বেশি করে কেনায় সংকট আরো বেড়েছে।

আপনারা এই সংকটের জন্য দায়ী এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, কোম্পানি ঠিক মতো তেল সরবরাহ করলে দাম কমে আসবে।
নিউজবিজয়২৪ডট কম/এফএইচএন