ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

রংপুরের ভাওয়াইয়া গানের রানী শরীফা রাণী আর নেই

ভাওয়াইয়া গানের রানী হিসেবে খ্যাত রংপুরের জনপ্রিয় শিল্পী শরীফা রাণী আর নেই।

বৃহস্পতিবার(২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুমার আত্মীয় সাংবাদিক আলী আখতার গোলাম কিবরিয়া।

শরীফা রাণী গত দুদিন আগে তাঁর রক্তচাপ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এলে তাঁকে অচেতন অবস্থায় দ্রুত রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি অচেতন অবস্থায় থেকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শরীফা রাণীর জন্ম ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুন, বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন থেকে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। গত ৮ বছর ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছিলেন।

শরীফা রাণী বিয়ের পর ১৯৭৪ থেকে স্বামী প্রকৌশলী নুরুন্নবীর সঙ্গে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের এক মেয়ে, দুই ছেলে এবং নাতি-নাতনি রয়েছে। ঢাকায় থিতু হওয়ার পর ১৯৭৭/৭৮-এ বেতার ও টেলিভিশনে গান গাওয়া ছেড়ে দেন শরিফা। এরপর তিনি সংসার ও ধর্মকর্মে নিজেকে যুক্ত রাখেন। শরীফা রাণী হজব্রত পালন করেছেন।

তিনি নীলফামারী জেলার কৃতি সন্তান গীতিকার, সুরকার ও গায়ক মহেশ চন্দ্র রায়ের ‘কানিচাত গাড়িনু আকাশি আকালি/আকালি ঝুমঝুম করে রে বন্ধুয়া / আকালি ঝুমঝুম করে….’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের আগে রংপুর বেতারে পরিবেশন করে সেসময় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তাঁর সেই সুরেলা গায়কি আজও কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। তাঁর কণ্ঠে মিশে থাকতো রংপুরের সোঁদা মাটির আমেজ আর এ অঞ্চলের মানুষের নির্মল ভাবাবেগ।

তাই আজও ভাওয়াইয়ার এই কিংবদন্তি শিল্পীকে কেউই ভুলে যায়নি। ‘কানিচাত গাড়িনু’ গানটি আজও শহরে কিংবা গ্রামে অত্যন্ত মমত্ববোধের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়াও ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে/ বন্ধু ধন, ধন রে/ বন্ধু কাজল ভোমরা রে / ওকি গাড়িয়াল ভাই/ বাবার দ্যাশে রঙিন গাড়িয়াল ও/ ও মোর বানিয়া বন্ধু রে/ ওরে গাড়িয়াল বন্ধু রে/তুই কোন্টে গেলু/ বাপোই চ্যাংড়া রে/ কারবা বাড়ির চিতিয়া বিলাই/ দোলা মাটির মোর বতুয়ারে শাক/ মুই না শোনোং না শোনোং তোর বৈদেশিয়ার কথা’ ইত্যাদি গান গেয়ে ভাওয়াইয়া সাম্রাজ্যের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন শরীফা রাণী। তাঁর কণ্ঠে গ্রামবাংলার যাপিত জীবনের মরমিয়া সুর খুব সহজে ঢেউ খেলে যেতো। তাঁর ভাওয়াইয়া গান শুনলে মনে হতো, সহজ-সরল গ্রাম্য বধুর প্রাণের আকুতি অবলীলায় প্রকৃতির প্রান্ত ছুঁয়ে গেছে। তাঁর গান শুনে আকুল হয়ে উঠতো গ্রামের অগণিত শ্রোতার মন ও প্রাণ। ভাওয়াইয়া শুনে তারা প্রাণের শেকড়কে বারবার ধারণ করে বিগলিত হয়ে পড়তেন।

শরীফা রাণীর আদি নিবাস রংপুর শহরের মুন্সীপাড়ায়। বাবা আব্দুল গণি ও মা শাহেদা বেগম। চার ভাই চার বোনের মধ্য শরীফা রাণী সবার বড়।

শরীফা রাণী মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল, রংপুর সরকারি গার্লস স্কুল ও কারমাইকেল কলেজে লেখাপড়া করেছেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

রংপুরের ভাওয়াইয়া গানের রানী শরীফা রাণী আর নেই

প্রকাশিত সময় :- ০১:২২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩

ভাওয়াইয়া গানের রানী হিসেবে খ্যাত রংপুরের জনপ্রিয় শিল্পী শরীফা রাণী আর নেই।

বৃহস্পতিবার(২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুমার আত্মীয় সাংবাদিক আলী আখতার গোলাম কিবরিয়া।

শরীফা রাণী গত দুদিন আগে তাঁর রক্তচাপ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এলে তাঁকে অচেতন অবস্থায় দ্রুত রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি অচেতন অবস্থায় থেকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শরীফা রাণীর জন্ম ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুন, বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন থেকে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। গত ৮ বছর ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছিলেন।

শরীফা রাণী বিয়ের পর ১৯৭৪ থেকে স্বামী প্রকৌশলী নুরুন্নবীর সঙ্গে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের এক মেয়ে, দুই ছেলে এবং নাতি-নাতনি রয়েছে। ঢাকায় থিতু হওয়ার পর ১৯৭৭/৭৮-এ বেতার ও টেলিভিশনে গান গাওয়া ছেড়ে দেন শরিফা। এরপর তিনি সংসার ও ধর্মকর্মে নিজেকে যুক্ত রাখেন। শরীফা রাণী হজব্রত পালন করেছেন।

তিনি নীলফামারী জেলার কৃতি সন্তান গীতিকার, সুরকার ও গায়ক মহেশ চন্দ্র রায়ের ‘কানিচাত গাড়িনু আকাশি আকালি/আকালি ঝুমঝুম করে রে বন্ধুয়া / আকালি ঝুমঝুম করে….’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের আগে রংপুর বেতারে পরিবেশন করে সেসময় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তাঁর সেই সুরেলা গায়কি আজও কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। তাঁর কণ্ঠে মিশে থাকতো রংপুরের সোঁদা মাটির আমেজ আর এ অঞ্চলের মানুষের নির্মল ভাবাবেগ।

তাই আজও ভাওয়াইয়ার এই কিংবদন্তি শিল্পীকে কেউই ভুলে যায়নি। ‘কানিচাত গাড়িনু’ গানটি আজও শহরে কিংবা গ্রামে অত্যন্ত মমত্ববোধের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়াও ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে/ বন্ধু ধন, ধন রে/ বন্ধু কাজল ভোমরা রে / ওকি গাড়িয়াল ভাই/ বাবার দ্যাশে রঙিন গাড়িয়াল ও/ ও মোর বানিয়া বন্ধু রে/ ওরে গাড়িয়াল বন্ধু রে/তুই কোন্টে গেলু/ বাপোই চ্যাংড়া রে/ কারবা বাড়ির চিতিয়া বিলাই/ দোলা মাটির মোর বতুয়ারে শাক/ মুই না শোনোং না শোনোং তোর বৈদেশিয়ার কথা’ ইত্যাদি গান গেয়ে ভাওয়াইয়া সাম্রাজ্যের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন শরীফা রাণী। তাঁর কণ্ঠে গ্রামবাংলার যাপিত জীবনের মরমিয়া সুর খুব সহজে ঢেউ খেলে যেতো। তাঁর ভাওয়াইয়া গান শুনলে মনে হতো, সহজ-সরল গ্রাম্য বধুর প্রাণের আকুতি অবলীলায় প্রকৃতির প্রান্ত ছুঁয়ে গেছে। তাঁর গান শুনে আকুল হয়ে উঠতো গ্রামের অগণিত শ্রোতার মন ও প্রাণ। ভাওয়াইয়া শুনে তারা প্রাণের শেকড়কে বারবার ধারণ করে বিগলিত হয়ে পড়তেন।

শরীফা রাণীর আদি নিবাস রংপুর শহরের মুন্সীপাড়ায়। বাবা আব্দুল গণি ও মা শাহেদা বেগম। চার ভাই চার বোনের মধ্য শরীফা রাণী সবার বড়।

শরীফা রাণী মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল, রংপুর সরকারি গার্লস স্কুল ও কারমাইকেল কলেজে লেখাপড়া করেছেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন