‘ফেসবুক গুগল ইউটিউবকে বাংলাদেশে নিজস্ব অফিস স্থাপনে বাধ্য করতে হবে’ » NewsBijoy24 । Online Newspaper of Bangladesh.
ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

‘ফেসবুক গুগল ইউটিউবকে বাংলাদেশে নিজস্ব অফিস স্থাপনে বাধ্য করতে হবে’

  • নিউজ বিজয় ডেস্ক :-
  • প্রকাশিত সময় :- ০১:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩
  • ২৭৭ পড়া হয়েছে। নিউজবিজয় ২৪.কম-১৫ ডিসেম্বরে ৯ বছরে পর্দাপন

ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় এসেছে। কিন্তু তাদের আয়করের আওতায় আনতে দেশীয় নীতিমালার অধীনে আনতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব অফিস স্থাপনে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা প্রয়োজন।
শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ-সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, বেসিসের পরিচালক হাবিবুল্লাহ নিয়ামুল করিম, ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজীবা রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন- ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ঠিকই ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের শ্যাডো বাংলাদেশে আছে, বডি কিন্তু নেই। এ কারণে তাদের ধরা মুশকিল হয়ে পড়েছে। নিয়ম করা হয়েছে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। তিনি বলেন, আগেও অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, সেটা আমরা মোকাবিলা করেছি। ডিজিটাল ইকোনমির মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রি হচ্ছে। দেশের মানুষ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতে। তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত। এ খাতে যে সম্ভাবনা আছে, সেটা আরও কাজে লাগাতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এখানে ট্রানজেকশনগুলো এত ছোট, এখানে প্রত্যেকটাতে কর বসানো হলে জটিলতা আসবে। শেষে ভোক্তা পর্যায়ে দিতে গেলেও ১০ রকমের সমস্যা আসবে। তিনি বলেন, এখানে বিজনেস মডেল পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মনীতির ভিত্তিতে এই বিজনেস মডেল আনতে হবে। এখানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আনতে হবে। এ খাতে কর আদায়ে সাম্য রাখতে হবে। এছাড়াও দক্ষতা বাড়ানো এবং কর আদায় সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে এই ইস্যুটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা আইএমএফ ঋণ সহায়তায় রয়েছি। আইএমএফ’র শর্তে বলা হয়েছে, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। তবে কীভাবে বাড়বে জানি না। দ্বিতীয়ত, এছাড়াও কর অব্যাহতির কথা বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো। প্রথম দুটি অর্ডার দিয়ে বাড়াতে হবে। কিন্তু তৃতীয়টা অর্ডার দিয়ে বাড়ানো সম্ভব নয়।

ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- ফেসবুক, গুগলের মতো বড় কোম্পানি এ দেশে আসছে। এদেরও করের বিষয় আসছে। সেখানেও রাজস্ব আদায়ের বড় সুযোগ আছে। আইএমএফ’র প্রোগ্রামে আমরা ঢুকেছি। সেখানে কিছু টার্গেটও দেওয়া আছে। তিন বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার নতুন কর আদায় করতে হবে।

দেশের ডিজিটাল ইকোনমির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে যা সাড়ে ১০ বিলিয়নে পৌঁছাবে। ই-ক্যাবের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা আড়াই হাজার, যার মধ্যে ৯৫ শতাংশের আকার ছোট। সাড়ে ৪ হাজারের মতো সফটওয়্যার কোম্পানি আছে, চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান ৮০টির বেশি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। ৩৬ হাজার ৮০০ জন ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন। ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয়ে আমরা বিশ্বে অষ্টম। ফেসবুক, গুগল কিংবা ইউটিউবে বিজ্ঞাপন থেকে কত টাকা আয় করে সেটার সঠিক হিসাব নেই। ২০২৭ সালে ওটিটির গ্রাহক এক কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, আইটির ২৮টি খাতকে আমরা আয়কর অব্যাহতি দিয়েছি। এগুলোর কার্যকারিতা আছে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত। এগুলো নিয়ে এখন ভাবার সুযোগ রয়েছে। দেশের অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, গুগলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। সেখান থেকে তারা ভ্যাট দিলেও ট্যাক্স দিচ্ছে না। এটা নিয়ে সারা বিশ্বেই আন্দোলন হচ্ছে। ডিজিটাল ইকোনমি থেকে রাজস্ব বাড়ানোর সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বচ্ছভাবে এটাকে নিয়ে আসতে হবে। নতুন নতুন সার্ভিসেস কোড নেই, রাজস্বের জন্য নতুন কোড আসবে। রাজস্ব বোর্ডকে অটোমেশন বাড়াতে হবে। রাজস্ব বোর্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বেসিসের পরিচালক হাবিবুল্লাহ নিয়ামুল করিম বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি আলাদা কোনো ইকোনমি না। ভবিষ্যতে প্রথাগত ইকোনমির সঙ্গে ডিজিটাল ইকোনমির এই পার্থক্য আর থাকবে না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ভ্যাটের আওতায় নেই। ৯০ শতাংশের বেশি ই-কমার্স ভেন্ডর ৮০ লাখ টাকার নিচের ফ্লোতে আছে। ই-কমার্সের ওপর ভ্যাট আরোপ করলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তদের খুব বেশি সমস্যা হবে না। ক্রস বর্ডার লেনদেনের ক্ষেত্রে ফেসবুক, গুগল ছাড়াও অনেক ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের কাছ থেকেও রাজস্ব আদায় করা দরকার। ফেসবুক, গুগলকে বাংলাদেশে অফিস করতে বাধ্য করতে হবে।

ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কর কাঠামোতে অনেক সমস্যা আছে। সিগারেট থেকে সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স আদায় করে এনবিআর। সেখানেও একাধিক টায়ার। এসব সমস্যা সমাধান না করে ডিজিটাল ইকোনমিতে যাওয়া যাবে না। রাজস্ব বোর্ডকে পুরো অটোমেশন করা দরকার।

তিনি বলেন, যে আসে তাকেই করছাড় দিলে চলবে না। তাহলে ট্যাক্স আসবে কোথা থেকে। সংসদ-সদস্যরা যেসব সুবিধা নেন, অন্যরাও নেন। এটা ঠিক না।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ট্যাক্স জিডিপি রেশিও যেহেতু কম, ডিজিটাল ইকোনমি থেকে কিছুটা নিয়ে এটা বাড়ানো যেতে পারে। ট্যাক্স জিডিপি রেশিও কেন কম হচ্ছে, কোথায় লিকেজ হচ্ছে- এটার ওপর স্টাডি করা প্রয়োজন। জাতীয় সংসদে এটা আলোচনা হওয়া দরকার। আমাদের জিডিপি বাড়ছে, কিন্তু আদায় হচ্ছে না। কোথায় লিকেজ এটা জানা দরকার। আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করলাম, কিন্তু টোল আদায়ের দায়িত্ব দিলাম বিদেশিদের।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও কর অনুপাত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে, যাদের উপস্থিতি আছে কিন্তু রাজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে নেই। এসব বিষয় আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে যৌক্তিকভাবে ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে তাদের করের আওতায় আনা যায় সেটাও দেখতে হবে। এর জন্য প্রাতিষ্ঠান ও আইনগত যে প্রস্তুতি দরকার সেটাও নিতে হবে। তাদের কীভাবে করের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে ডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকেও প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন বলেন, ই-কমার্স যত এগোবে ডিজিটাল ইকোনমির সম্প্রসারণ দ্রুত হবে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার ছিল ৭০০ কোটি টাকার মতো। এখন তা অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজীবা রহমান বলেন, প্রতিজন ফ্রিল্যান্সার দেশের ডিজিটাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমরা ২০২১ সাল থেকে কর অব্যাহতি পেয়েছি। তার আগে থেকে আমরা ১৯ শতাংশ হারে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে আসছি। একটা ফ্রিল্যান্সারকে নিজেকে প্রমোশন করে কাজ পেতে হয়।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব বাজারে কমল তেলের দাম, দেশে এর প্রভাব নেই

Advertisement

‘ফেসবুক গুগল ইউটিউবকে বাংলাদেশে নিজস্ব অফিস স্থাপনে বাধ্য করতে হবে’

প্রকাশিত সময় :- ০১:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩

ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় এসেছে। কিন্তু তাদের আয়করের আওতায় আনতে দেশীয় নীতিমালার অধীনে আনতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব অফিস স্থাপনে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা প্রয়োজন।
শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ-সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, বেসিসের পরিচালক হাবিবুল্লাহ নিয়ামুল করিম, ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজীবা রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন- ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ঠিকই ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের শ্যাডো বাংলাদেশে আছে, বডি কিন্তু নেই। এ কারণে তাদের ধরা মুশকিল হয়ে পড়েছে। নিয়ম করা হয়েছে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। তিনি বলেন, আগেও অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, সেটা আমরা মোকাবিলা করেছি। ডিজিটাল ইকোনমির মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রি হচ্ছে। দেশের মানুষ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতে। তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত। এ খাতে যে সম্ভাবনা আছে, সেটা আরও কাজে লাগাতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এখানে ট্রানজেকশনগুলো এত ছোট, এখানে প্রত্যেকটাতে কর বসানো হলে জটিলতা আসবে। শেষে ভোক্তা পর্যায়ে দিতে গেলেও ১০ রকমের সমস্যা আসবে। তিনি বলেন, এখানে বিজনেস মডেল পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মনীতির ভিত্তিতে এই বিজনেস মডেল আনতে হবে। এখানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আনতে হবে। এ খাতে কর আদায়ে সাম্য রাখতে হবে। এছাড়াও দক্ষতা বাড়ানো এবং কর আদায় সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে এই ইস্যুটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা আইএমএফ ঋণ সহায়তায় রয়েছি। আইএমএফ’র শর্তে বলা হয়েছে, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। তবে কীভাবে বাড়বে জানি না। দ্বিতীয়ত, এছাড়াও কর অব্যাহতির কথা বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো। প্রথম দুটি অর্ডার দিয়ে বাড়াতে হবে। কিন্তু তৃতীয়টা অর্ডার দিয়ে বাড়ানো সম্ভব নয়।

ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- ফেসবুক, গুগলের মতো বড় কোম্পানি এ দেশে আসছে। এদেরও করের বিষয় আসছে। সেখানেও রাজস্ব আদায়ের বড় সুযোগ আছে। আইএমএফ’র প্রোগ্রামে আমরা ঢুকেছি। সেখানে কিছু টার্গেটও দেওয়া আছে। তিন বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার নতুন কর আদায় করতে হবে।

দেশের ডিজিটাল ইকোনমির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে যা সাড়ে ১০ বিলিয়নে পৌঁছাবে। ই-ক্যাবের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা আড়াই হাজার, যার মধ্যে ৯৫ শতাংশের আকার ছোট। সাড়ে ৪ হাজারের মতো সফটওয়্যার কোম্পানি আছে, চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান ৮০টির বেশি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। ৩৬ হাজার ৮০০ জন ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন। ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয়ে আমরা বিশ্বে অষ্টম। ফেসবুক, গুগল কিংবা ইউটিউবে বিজ্ঞাপন থেকে কত টাকা আয় করে সেটার সঠিক হিসাব নেই। ২০২৭ সালে ওটিটির গ্রাহক এক কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, আইটির ২৮টি খাতকে আমরা আয়কর অব্যাহতি দিয়েছি। এগুলোর কার্যকারিতা আছে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত। এগুলো নিয়ে এখন ভাবার সুযোগ রয়েছে। দেশের অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, গুগলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। সেখান থেকে তারা ভ্যাট দিলেও ট্যাক্স দিচ্ছে না। এটা নিয়ে সারা বিশ্বেই আন্দোলন হচ্ছে। ডিজিটাল ইকোনমি থেকে রাজস্ব বাড়ানোর সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বচ্ছভাবে এটাকে নিয়ে আসতে হবে। নতুন নতুন সার্ভিসেস কোড নেই, রাজস্বের জন্য নতুন কোড আসবে। রাজস্ব বোর্ডকে অটোমেশন বাড়াতে হবে। রাজস্ব বোর্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বেসিসের পরিচালক হাবিবুল্লাহ নিয়ামুল করিম বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি আলাদা কোনো ইকোনমি না। ভবিষ্যতে প্রথাগত ইকোনমির সঙ্গে ডিজিটাল ইকোনমির এই পার্থক্য আর থাকবে না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ভ্যাটের আওতায় নেই। ৯০ শতাংশের বেশি ই-কমার্স ভেন্ডর ৮০ লাখ টাকার নিচের ফ্লোতে আছে। ই-কমার্সের ওপর ভ্যাট আরোপ করলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তদের খুব বেশি সমস্যা হবে না। ক্রস বর্ডার লেনদেনের ক্ষেত্রে ফেসবুক, গুগল ছাড়াও অনেক ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের কাছ থেকেও রাজস্ব আদায় করা দরকার। ফেসবুক, গুগলকে বাংলাদেশে অফিস করতে বাধ্য করতে হবে।

ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কর কাঠামোতে অনেক সমস্যা আছে। সিগারেট থেকে সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স আদায় করে এনবিআর। সেখানেও একাধিক টায়ার। এসব সমস্যা সমাধান না করে ডিজিটাল ইকোনমিতে যাওয়া যাবে না। রাজস্ব বোর্ডকে পুরো অটোমেশন করা দরকার।

তিনি বলেন, যে আসে তাকেই করছাড় দিলে চলবে না। তাহলে ট্যাক্স আসবে কোথা থেকে। সংসদ-সদস্যরা যেসব সুবিধা নেন, অন্যরাও নেন। এটা ঠিক না।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ট্যাক্স জিডিপি রেশিও যেহেতু কম, ডিজিটাল ইকোনমি থেকে কিছুটা নিয়ে এটা বাড়ানো যেতে পারে। ট্যাক্স জিডিপি রেশিও কেন কম হচ্ছে, কোথায় লিকেজ হচ্ছে- এটার ওপর স্টাডি করা প্রয়োজন। জাতীয় সংসদে এটা আলোচনা হওয়া দরকার। আমাদের জিডিপি বাড়ছে, কিন্তু আদায় হচ্ছে না। কোথায় লিকেজ এটা জানা দরকার। আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করলাম, কিন্তু টোল আদায়ের দায়িত্ব দিলাম বিদেশিদের।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও কর অনুপাত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে, যাদের উপস্থিতি আছে কিন্তু রাজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে নেই। এসব বিষয় আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে যৌক্তিকভাবে ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে তাদের করের আওতায় আনা যায় সেটাও দেখতে হবে। এর জন্য প্রাতিষ্ঠান ও আইনগত যে প্রস্তুতি দরকার সেটাও নিতে হবে। তাদের কীভাবে করের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে ডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকেও প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন বলেন, ই-কমার্স যত এগোবে ডিজিটাল ইকোনমির সম্প্রসারণ দ্রুত হবে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার ছিল ৭০০ কোটি টাকার মতো। এখন তা অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজীবা রহমান বলেন, প্রতিজন ফ্রিল্যান্সার দেশের ডিজিটাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমরা ২০২১ সাল থেকে কর অব্যাহতি পেয়েছি। তার আগে থেকে আমরা ১৯ শতাংশ হারে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে আসছি। একটা ফ্রিল্যান্সারকে নিজেকে প্রমোশন করে কাজ পেতে হয়।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন