ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পীরগাছায় শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে গাছে বেঁধে মারপিট করার অভিযোগ

ফাইল ছবি..

রংপুরের পীরগাছায় যৌতুকের জন্য শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে গাছে বেঁধে মারপিট ও স্ত্রীকে হাতের রগ কেটে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠছে হামিদুল ইসলাম নামে এক জামাতার বিরুদ্ধে। এমনকি শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত শ্বশুর ও স্ত্রী জান্নাতী বেগমকে উদ্ধার করে পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গত ১৩ মে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের ছোট হায়াত খাঁ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে পীরগাছা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো রেকর্ড ভূক্ত করা হয়নি। উল্টো জামাতার পক্ষ থেকে আহত শ্বশুর-শ্বাশুড়ির নামে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের আরাজি প্রতাব বিষু গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বিগত তিন বছর আগে তার মেয়ে জান্নাতী বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী ছোট হায়াত খাঁ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে হামিদুল ইসলাম (২৫) এর সাথে বিয়ে দেন। তাদের ঘরে জোনাইদ নামে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। এদিকে বিগত কয়েক মাস থেকে হামিদুল ইসলাম তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রী জান্নাতী বেগমকে নির্যাতন করতে থাকে। গরীব বাবা এ টাকা দিতে না পারায় গত ১৩ মে জান্নাতীকে বেদম মারপিট করে স্বামী হামিদুল ইসলাম। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে খবর দেয়া হয় শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ও শ্বাশুড়ী লাবনী বেগমকে।
তারা দ্রুত জামাই বাড়িতে এসে মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে জামাতা হামিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করেন বলে দাবি করেন শ^শুর জাহাঙ্গীর আলম। এতে শ্বশুড়ের মাথায় ধারালো ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়।
এতে তারা মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের মাথায় তিনটি সেলাই দেয়া হয়েছে এবং মেয়েটির হাতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে হামিদুল ইসলাম বাড়িতে না থাকায় তার মা হামিদা বেগম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া হয়েছে, তারা নিজেরা আলাদা খায়। আমার বিয়াই লোকজন নিয়ে এসে আমাদের বাড়িতে হামলা করেছে।
বাদি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামাতা আমাদের দুজনকে ডেকে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেদম মারপিট করেছে। আমার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তারা উল্টো আমাদের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেহেতু একটি সন্তান রয়েছে, তাই উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। মিমাংসা না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন>>কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১ কোটি ৩০ লাখ পশু : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

পীরগাছায় শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে গাছে বেঁধে মারপিট করার অভিযোগ

প্রকাশিত সময় :- ০৭:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

রংপুরের পীরগাছায় যৌতুকের জন্য শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে গাছে বেঁধে মারপিট ও স্ত্রীকে হাতের রগ কেটে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠছে হামিদুল ইসলাম নামে এক জামাতার বিরুদ্ধে। এমনকি শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত শ্বশুর ও স্ত্রী জান্নাতী বেগমকে উদ্ধার করে পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গত ১৩ মে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের ছোট হায়াত খাঁ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে পীরগাছা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো রেকর্ড ভূক্ত করা হয়নি। উল্টো জামাতার পক্ষ থেকে আহত শ্বশুর-শ্বাশুড়ির নামে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের আরাজি প্রতাব বিষু গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বিগত তিন বছর আগে তার মেয়ে জান্নাতী বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী ছোট হায়াত খাঁ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে হামিদুল ইসলাম (২৫) এর সাথে বিয়ে দেন। তাদের ঘরে জোনাইদ নামে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। এদিকে বিগত কয়েক মাস থেকে হামিদুল ইসলাম তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রী জান্নাতী বেগমকে নির্যাতন করতে থাকে। গরীব বাবা এ টাকা দিতে না পারায় গত ১৩ মে জান্নাতীকে বেদম মারপিট করে স্বামী হামিদুল ইসলাম। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে খবর দেয়া হয় শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ও শ্বাশুড়ী লাবনী বেগমকে।
তারা দ্রুত জামাই বাড়িতে এসে মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে জামাতা হামিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করেন বলে দাবি করেন শ^শুর জাহাঙ্গীর আলম। এতে শ্বশুড়ের মাথায় ধারালো ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়।
এতে তারা মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের মাথায় তিনটি সেলাই দেয়া হয়েছে এবং মেয়েটির হাতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে হামিদুল ইসলাম বাড়িতে না থাকায় তার মা হামিদা বেগম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া হয়েছে, তারা নিজেরা আলাদা খায়। আমার বিয়াই লোকজন নিয়ে এসে আমাদের বাড়িতে হামলা করেছে।
বাদি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামাতা আমাদের দুজনকে ডেকে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেদম মারপিট করেছে। আমার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তারা উল্টো আমাদের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেহেতু একটি সন্তান রয়েছে, তাই উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। মিমাংসা না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন>>কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১ কোটি ৩০ লাখ পশু : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন