ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

দখল মুক্ত ২৪০ বছরের প্রাচীন মসজিদ

পীরগাছায় চন্ডিপুরের ‘পীরপাল গাজী সাহেবের মসজিদে নামাজ আদায় শুরু

স্মৃতি বিজড়িত পীরগাছার নাপাই চন্ডিপুরে মোঘল আমলে নির্মাণ করা তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট এক কাতার মসজিদটি দখল মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন মামলা-মোকাদ্দার পর অবশেষে গত এক সপ্তাহ থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণে ওয়াক্তি নামাজ আদায় শুরু করছেন স্থানীয় মুসুল্লিরা। প্রায় ২৪০ বছরের প্রাচীন মোঘল আমলের এ মসজিদটি একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন নিজেরা ভোগদখল করে আসছিলো। অবশেষে মামলা-মোকাদ্দমার রায় ‘পীরপাল গাজী সাহেবের মসজিদ’ নামে স্থানীয় মুসুল্লিদের পক্ষে দেয়া হলে গত এক সপ্তাহ থেকে তারা জরাজীর্ণ তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট এক কাতার মসজিদটির সামনে টিনের চালা তুলে আনুষ্ঠানিক ভাবে নামাজ আদায় শুরু করেন। এতে করে সাধারন মুসুল্লিদের মাঝে উৎফুল্ল দেখা গেছে।
ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, দেবী চৌধুরাণীর স্মৃতি বিজড়িত চন্ডিপুরেই মোঘল আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ছোট্র তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদ। মসজিদের দেয়ালের আস্তরণ খসে পড়েছে অনেক আগেই। দেয়াল ভেদ করে গজিয়ে উঠেছে গাছ-গাছালি আর লতাপাতা। ওপরের বিশাল আকৃতির তিন গম্বুজে ফাটল ধরেছে। ইতোমধ্যে চারপাশের চারটি মিনার ধ্বসে পড়েছে। কালের পরিক্রমায় ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত মসজিদটি সংস্কার বা সংরক্ষণ করা হয়নি। উল্টো জোরপূর্বক পীরপাল গাজী সাহবের জমিজমা দখল করে ভোগদখল করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। সম্প্রতি সহকারি জজ আদালত বদরগঞ্জ, রংপুরের সহকারি জজ ফাইরুজ তাসনীম চন্ডিপুর পীরপাল গাজী সাহেবের মসজিদ কমিটির পক্ষে রায় প্রদান করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে থাকা এক কাতার মসজিদটির সামনে টিনের চালা তুলে মাটি কেটে মসজিদ তৈরি করছেন স্থানীয় লোকজন। সামনে বসানো হয়েছে নলকূপ। ১৫ থেকে ২০ মুসুল্লি একত্রে নামাজ আদায় করছেন। সকলের এক কথা ২৪০ বছর পর এই স্থানে নামাজ আদায় করা হলো। এতে একটি মসজিদের জায়গা উদ্ধার হলো।
মসজিদ কমিটি সভাপতি আব্দুল গোফ্ফার মিয়া বলেন, ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। ইতিহাস ঘাটতে সব জানা সম্ভব। মোঘল আমলে যে এখানে মানুষ নামাজ আদায় করতো তা আজ প্রমান হয়েছে। আমরা মসজিদের পক্ষে রায় পেয়েছি। এখন মুসুল্লিরা এখানে ওয়াক্তি নামাজ আদায় করবেন। সে জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এসময় সাধারন সম্পাদক বাদশা আলম, সদস্য মিলন মিয়া, আব্দুল মালেক বলেন, গ্রামের সব লোক মসজিদের পক্ষে। তারাও চাচ্ছিলেন মসজিদের জায়গা দখল মুক্ত হোক। আমরা এ নিয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করে আদালতের রায় পেয়েছি। আজ আমরা স্বার্থক। আমরা চাই সকল ভেদাভেদ ভুলে এই মসজিদটি একটি পুণাঙ্গ রুপ পাক। এ জন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

দখল মুক্ত ২৪০ বছরের প্রাচীন মসজিদ

পীরগাছায় চন্ডিপুরের ‘পীরপাল গাজী সাহেবের মসজিদে নামাজ আদায় শুরু

প্রকাশিত সময় :- ০৬:৩৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০২৩

স্মৃতি বিজড়িত পীরগাছার নাপাই চন্ডিপুরে মোঘল আমলে নির্মাণ করা তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট এক কাতার মসজিদটি দখল মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন মামলা-মোকাদ্দার পর অবশেষে গত এক সপ্তাহ থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণে ওয়াক্তি নামাজ আদায় শুরু করছেন স্থানীয় মুসুল্লিরা। প্রায় ২৪০ বছরের প্রাচীন মোঘল আমলের এ মসজিদটি একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন নিজেরা ভোগদখল করে আসছিলো। অবশেষে মামলা-মোকাদ্দমার রায় ‘পীরপাল গাজী সাহেবের মসজিদ’ নামে স্থানীয় মুসুল্লিদের পক্ষে দেয়া হলে গত এক সপ্তাহ থেকে তারা জরাজীর্ণ তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট এক কাতার মসজিদটির সামনে টিনের চালা তুলে আনুষ্ঠানিক ভাবে নামাজ আদায় শুরু করেন। এতে করে সাধারন মুসুল্লিদের মাঝে উৎফুল্ল দেখা গেছে।
ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, দেবী চৌধুরাণীর স্মৃতি বিজড়িত চন্ডিপুরেই মোঘল আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ছোট্র তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদ। মসজিদের দেয়ালের আস্তরণ খসে পড়েছে অনেক আগেই। দেয়াল ভেদ করে গজিয়ে উঠেছে গাছ-গাছালি আর লতাপাতা। ওপরের বিশাল আকৃতির তিন গম্বুজে ফাটল ধরেছে। ইতোমধ্যে চারপাশের চারটি মিনার ধ্বসে পড়েছে। কালের পরিক্রমায় ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত মসজিদটি সংস্কার বা সংরক্ষণ করা হয়নি। উল্টো জোরপূর্বক পীরপাল গাজী সাহবের জমিজমা দখল করে ভোগদখল করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। সম্প্রতি সহকারি জজ আদালত বদরগঞ্জ, রংপুরের সহকারি জজ ফাইরুজ তাসনীম চন্ডিপুর পীরপাল গাজী সাহেবের মসজিদ কমিটির পক্ষে রায় প্রদান করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে থাকা এক কাতার মসজিদটির সামনে টিনের চালা তুলে মাটি কেটে মসজিদ তৈরি করছেন স্থানীয় লোকজন। সামনে বসানো হয়েছে নলকূপ। ১৫ থেকে ২০ মুসুল্লি একত্রে নামাজ আদায় করছেন। সকলের এক কথা ২৪০ বছর পর এই স্থানে নামাজ আদায় করা হলো। এতে একটি মসজিদের জায়গা উদ্ধার হলো।
মসজিদ কমিটি সভাপতি আব্দুল গোফ্ফার মিয়া বলেন, ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। ইতিহাস ঘাটতে সব জানা সম্ভব। মোঘল আমলে যে এখানে মানুষ নামাজ আদায় করতো তা আজ প্রমান হয়েছে। আমরা মসজিদের পক্ষে রায় পেয়েছি। এখন মুসুল্লিরা এখানে ওয়াক্তি নামাজ আদায় করবেন। সে জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এসময় সাধারন সম্পাদক বাদশা আলম, সদস্য মিলন মিয়া, আব্দুল মালেক বলেন, গ্রামের সব লোক মসজিদের পক্ষে। তারাও চাচ্ছিলেন মসজিদের জায়গা দখল মুক্ত হোক। আমরা এ নিয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করে আদালতের রায় পেয়েছি। আজ আমরা স্বার্থক। আমরা চাই সকল ভেদাভেদ ভুলে এই মসজিদটি একটি পুণাঙ্গ রুপ পাক। এ জন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন