ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে কিডনি বিক্রয় চক্রের মূল ২ হোতা গ্রেফতার

জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের আরও দুজন মূল হোতা/দালালকে গ্রেফতার করেছে।

গতকাল ঢাকা মিরপুর ও আশুলিয়া থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে আব্দুল গোফফার (৪৫) ও জয়পুর বহুতির আব্দুস সাত্তারের ছেলে নুর আফতাব(৪২)।

মঙ্গলবার (৩১মে) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কালাই উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ অসহায় ও গরীব প্রকৃতির লোকজন দের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মানবদেহের কিডনি বিক্রয়ে প্রলুব্ধ করে।

ভিকটিমরা পরবর্তীতে অনেকেই দালালে পরিণত হয় এবং নিরীহ লোকজনদেরকে কিডনি বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় এবং তাদের অভাব অনটনের সুযোগ নিয়ে দালালেলা ১৫/২০ হাজার টাকা ধার/ সুদের উপর দেয়।

কিছুদিন পরে টাকা ফেরত চায়, দিতে না পারলে কিডনি বিক্রয়ের জন্য বাধ্য ওই চক্রটি।

পরবর্তীতে দালাল চক্র কতিপয় অসাধু ডাক্তারের মাধ্যমে ভিকটিমদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্তে দেশের দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিয়ে কিডনি অপসারণ করায়। অতঃপর নাম মাত্র চিকিৎসা শেষে তাদের হাতে ১/ ২ লক্ষ টাকা দিয়ে সারা জীবনের মতো অঙ্গহানী করে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

চক্রটি ৩টি স্তরে কাজ করে। প্রথম স্তরে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অর্থলোভী, তাদের কাজ এলাকার বিভিন্ন অসহায় ব্যক্তিদের টার্গেট করা এবং মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় স্তরের সহিত সমন্বয় অন্তে তাদের নিকট হস্তান্তর করে। দ্বিতীয় স্তরেরা ঢাকা শহরে থাকা, খাওয়া শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পাসপোর্ট ভিসাসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত করে তৃতীয় স্তরের চক্রের নিকট হস্তান্তর করে।

উল্লেখ্য যে, ২য় স্তরের সদস্যদের মধ্যে কিছু অসাধু ডাক্তার ও ক্লিনিক জড়িত আছে। এই চক্রের তৃতীয় স্তরেরা ভিকটিমদের দেশের বাহিরে বিশেষ করে ভারত ও দুবাইতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের সুবিধামত ভিকটিমদের শরীর থেকে কিডনী অপসারণ করায়।

এই দালাল চক্রকে সনাক্ত করার জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তৎপরতা বৃদ্ধি করে।

সাম্প্রতিক সময়ে কালাই উপজেলা থেকে কয়েকজন লোক কিডনি চক্রের প্রধান দালাল জনৈক কাওছার এবং সাত্তারের মাধ্যমে দুবাই ও ভারতে অবস্থান করছেন। কালাইয়ের পাশাপাশি পাঁচবিবি উপজেলাতে ও কিডনি বিক্রয়ের জন্য অসহায় গরীব লোকজনকে প্রলুব্ধ করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্যে পাওয়া যায়।

দালাল চক্রকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডিবির একটি চৌকশ অভিযানিক দল কালাই উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের প্রধান জনৈক কাওছার এবং সাত্তার এর সহযোগী এলাকার দালাল চক্র এবং ঘটনার সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৭ জনকে গত ১৪/০৫/২২ তারিখে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাত্রাই ও উদয়পুর ইউনিয়নের বিদেশগামী ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানের পূর্বে তদন্তকালীন বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

নিউজবিজয়/এফএইচএন

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

জয়পুরহাটে কিডনি বিক্রয় চক্রের মূল ২ হোতা গ্রেফতার

প্রকাশিত সময় :- ০৬:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মে ২০২২

জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের আরও দুজন মূল হোতা/দালালকে গ্রেফতার করেছে।

গতকাল ঢাকা মিরপুর ও আশুলিয়া থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে আব্দুল গোফফার (৪৫) ও জয়পুর বহুতির আব্দুস সাত্তারের ছেলে নুর আফতাব(৪২)।

মঙ্গলবার (৩১মে) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কালাই উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ অসহায় ও গরীব প্রকৃতির লোকজন দের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মানবদেহের কিডনি বিক্রয়ে প্রলুব্ধ করে।

ভিকটিমরা পরবর্তীতে অনেকেই দালালে পরিণত হয় এবং নিরীহ লোকজনদেরকে কিডনি বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় এবং তাদের অভাব অনটনের সুযোগ নিয়ে দালালেলা ১৫/২০ হাজার টাকা ধার/ সুদের উপর দেয়।

কিছুদিন পরে টাকা ফেরত চায়, দিতে না পারলে কিডনি বিক্রয়ের জন্য বাধ্য ওই চক্রটি।

পরবর্তীতে দালাল চক্র কতিপয় অসাধু ডাক্তারের মাধ্যমে ভিকটিমদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্তে দেশের দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিয়ে কিডনি অপসারণ করায়। অতঃপর নাম মাত্র চিকিৎসা শেষে তাদের হাতে ১/ ২ লক্ষ টাকা দিয়ে সারা জীবনের মতো অঙ্গহানী করে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

চক্রটি ৩টি স্তরে কাজ করে। প্রথম স্তরে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অর্থলোভী, তাদের কাজ এলাকার বিভিন্ন অসহায় ব্যক্তিদের টার্গেট করা এবং মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় স্তরের সহিত সমন্বয় অন্তে তাদের নিকট হস্তান্তর করে। দ্বিতীয় স্তরেরা ঢাকা শহরে থাকা, খাওয়া শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পাসপোর্ট ভিসাসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত করে তৃতীয় স্তরের চক্রের নিকট হস্তান্তর করে।

উল্লেখ্য যে, ২য় স্তরের সদস্যদের মধ্যে কিছু অসাধু ডাক্তার ও ক্লিনিক জড়িত আছে। এই চক্রের তৃতীয় স্তরেরা ভিকটিমদের দেশের বাহিরে বিশেষ করে ভারত ও দুবাইতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের সুবিধামত ভিকটিমদের শরীর থেকে কিডনী অপসারণ করায়।

এই দালাল চক্রকে সনাক্ত করার জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তৎপরতা বৃদ্ধি করে।

সাম্প্রতিক সময়ে কালাই উপজেলা থেকে কয়েকজন লোক কিডনি চক্রের প্রধান দালাল জনৈক কাওছার এবং সাত্তারের মাধ্যমে দুবাই ও ভারতে অবস্থান করছেন। কালাইয়ের পাশাপাশি পাঁচবিবি উপজেলাতে ও কিডনি বিক্রয়ের জন্য অসহায় গরীব লোকজনকে প্রলুব্ধ করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্যে পাওয়া যায়।

দালাল চক্রকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডিবির একটি চৌকশ অভিযানিক দল কালাই উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের প্রধান জনৈক কাওছার এবং সাত্তার এর সহযোগী এলাকার দালাল চক্র এবং ঘটনার সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৭ জনকে গত ১৪/০৫/২২ তারিখে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাত্রাই ও উদয়পুর ইউনিয়নের বিদেশগামী ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানের পূর্বে তদন্তকালীন বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

নিউজবিজয়/এফএইচএন