ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পরিষদ

  • নিউজ বিজয় ডেস্ক :-
  • প্রকাশিত সময় :- ০৪:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
  • ১৭৩ পড়া হয়েছে। নিউজবিজয় ২৪.কম-১৫ ডিসেম্বরে ৯ বছরে পর্দাপন

কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পরিষদ

জাতীয় সংসদের মতো উপজেলা পরিষদেও এখন জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশ ব্যবসায়ী ও কোটিপতি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে যাঁরা চেয়ারম্যান হয়েছেন, তাঁদের ৭৬ শতাংশই ব্যবসায়ী। নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে কোটিপতি রয়েছেন ৪৭ জন।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা ভোটের আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের পেশা, আয়, অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা ও জমির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে প্রথম আলো। এতে দেখা গেছে, নির্বাচিত ১৩৮ জনের মধ্যে ১০৫ জনই ব্যবসায়ী। কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ১২ জন। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার কথা বলেছেন ৭ জন, আইনজীবী ৫ জন। পেশা রাজনীতি—এমনটি উল্লেখ করেছেন ২ জন। অন্যান্য পেশা থেকে এসেছেন ৭ জন।

যে দুজন পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাহিন আহমেদ ও খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির মো. জয়নাল আবেদীন। এর মধ্যে শাহিন আহমেদ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি টানা চতুর্থ দফায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জয়নাল আবেদীন খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮ মে দেশের ১৩৯টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফলাফল স্থগিত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনের চার মাস আগে এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তাতে ব্যবসায়ীর সংখ্যা স্বাধীনতার পর গত ৫৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্তত ১৯৯ জন, যা সংসদ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ। অবশ্য এই নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ব্যবসায়ী ছিলেন ১৮২ জন। স্বাধীনতার পর সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিটি সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে। এখন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ধাপেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, জাতীয় সংসদের পর উপজেলা পরিষদেও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রায় সব স্তরে তাঁদের ‘নিয়ন্ত্রণ’ আরও জোরদার করবে। ব্যবসায়ীরা এখন রাজনীতিতে যে বিনিয়োগ করছেন, তা করছেন মূলত নিজেদের সম্পদ আরও বাড়ানোর জন্য। ব্যসায়ীদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতিবিদদেরই কোণঠাসা করে ফেলছে। রাজনীতিতে টাকা যে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে অধিক সম্পদশালীদের জয়লাভের মাধ্যমে। রাজনীতিতে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, এমন কোনো সংস্কার আর্থিক খাতে এখন আর করা যাচ্ছে না।

মোঃ নজরুল ইসলাম/নিবি

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

নামাজের সময়সূচি: ২২ মে ২০২৪

কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পরিষদ

প্রকাশিত সময় :- ০৪:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

জাতীয় সংসদের মতো উপজেলা পরিষদেও এখন জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশ ব্যবসায়ী ও কোটিপতি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে যাঁরা চেয়ারম্যান হয়েছেন, তাঁদের ৭৬ শতাংশই ব্যবসায়ী। নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে কোটিপতি রয়েছেন ৪৭ জন।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা ভোটের আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের পেশা, আয়, অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা ও জমির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে প্রথম আলো। এতে দেখা গেছে, নির্বাচিত ১৩৮ জনের মধ্যে ১০৫ জনই ব্যবসায়ী। কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ১২ জন। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার কথা বলেছেন ৭ জন, আইনজীবী ৫ জন। পেশা রাজনীতি—এমনটি উল্লেখ করেছেন ২ জন। অন্যান্য পেশা থেকে এসেছেন ৭ জন।

যে দুজন পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাহিন আহমেদ ও খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির মো. জয়নাল আবেদীন। এর মধ্যে শাহিন আহমেদ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি টানা চতুর্থ দফায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জয়নাল আবেদীন খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮ মে দেশের ১৩৯টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফলাফল স্থগিত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনের চার মাস আগে এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তাতে ব্যবসায়ীর সংখ্যা স্বাধীনতার পর গত ৫৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্তত ১৯৯ জন, যা সংসদ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ। অবশ্য এই নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ব্যবসায়ী ছিলেন ১৮২ জন। স্বাধীনতার পর সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিটি সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে। এখন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ধাপেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, জাতীয় সংসদের পর উপজেলা পরিষদেও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রায় সব স্তরে তাঁদের ‘নিয়ন্ত্রণ’ আরও জোরদার করবে। ব্যবসায়ীরা এখন রাজনীতিতে যে বিনিয়োগ করছেন, তা করছেন মূলত নিজেদের সম্পদ আরও বাড়ানোর জন্য। ব্যসায়ীদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতিবিদদেরই কোণঠাসা করে ফেলছে। রাজনীতিতে টাকা যে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে অধিক সম্পদশালীদের জয়লাভের মাধ্যমে। রাজনীতিতে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, এমন কোনো সংস্কার আর্থিক খাতে এখন আর করা যাচ্ছে না।

মোঃ নজরুল ইসলাম/নিবি