ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

ইতেকাফের ফজিলত ও উপকারিতা

রোজাদারের ইবাদতের প্রতিযোগিতার আরেক নাম ‘ইতেকাফ’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে কোমড়ে কাপড় বেঁধে ইবাদত-বন্দেগিতে লেগে যেতেন। ইতেকাফের সময়-ক্ষণ, ফজিলত ও উপকারিতায় কোরআন-সুন্নায় রয়েছে অনেক দিকনির্দেশনা। ১৪৪৪ হিজরির রমজানের ইতেকাফ শুরু হবে ১২ এপ্রিল, বুধবার সন্ধ্যায়।

নবিজির (সা.) ইতেকাফ

২০ রমজান ইফতারের আগেই মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করা মাসনুন ইতেকাফের নিয়ম। যা শেষ হবে শাওয়ালের চাঁদ দেখার আগ পর্যন্ত। হাদিসে পাকে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করতেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জেহাদে অংশগ্রহণের কারণে এক রমজান ইতেকাফ করতে পারেননি। যে কারণে তিনি পরবর্তী বছর ২০ দিন ইতেকাফ করে তা পূর্ণ করেছেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর তিনি কোনো রমজান ইতেকাফ ত্যাগ করেনি। হাদিসে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক রমজানে দশদিন ইতেকাফ করতেন। তবে ইন্তেকালের বছর তিনি ২০ দিন ইতেকাফ করেছেন।’ (বুখারি)

কোরআনে ইতেকাফের নির্দেশ

ইতেকাফের ফজিলত ও উপকারিতা অনেক বেশি। যুগে যুগে এ ইতেকাফের প্রচলন ছিল। ইতেকাফ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে হজরত ইবরাহিম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে এভাবে নির্দেশ দিয়েছেন-

وَ عَهِدۡنَاۤ اِلٰۤی اِبۡرٰهٖمَ وَ اِسۡمٰعِیۡلَ اَنۡ طَهِّرَا بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡعٰکِفِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ

‘আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১২৫)

আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমের এ আয়াতে বায়তুল্লাহকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে ইতেকাফ করতে পারে।

ইতেকাফের ফজিলত

হাদিসে পাকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দেন-

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে এক দিন ইতেকাফ করবে আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা (খন্দক) দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। অর্থাৎ আসমান ও জমিনের মাঝে যত দূরত্ব আছে তার চেয়েও বেশি দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।’ সুবহানাল্লাহ! (বায়হাকি, কানযুল উম্মাল: ২৪০১৯)

ইতেকাফ পালনকারী দুই কবুল হজ ও দুই ওমরার সাওয়াব পাবেন। ইতেকাফের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দেন-

‘যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন ইতেকাফ করবে তার আমল নামায় দুইটি কবুল হজ ও দুইটি ওমরার সমতুল্য সওয়াব লিখা হবে।’ (শুআবুল ইমান ৩৬৮১, কানযুল উম্মাল ২৪০০৬)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘ইতেকাফকারী ইতেকাফের কারণে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং সব নেকির সওয়াব অর্জন করে।’ (আল মুগনি ৩/৪৫৫)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে জামাত প্রতিষ্ঠিত হয় এমন মসজিদে ইতেকাফে থাকবে, নামাজ এবং কোরআন তেলাওয়াত ছাড়া কোনো কথা বলবে না, তার জন্য বেহেশতে মহল তৈরি করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যাবে।’ (কাশফুল গুম্মাহ ১/২১২)

ইতেকাফের উপকারিতা

রোজাদার ইতেকাফকারীর জন্য অনুমানের একটি বিষয় হলো- কোনো বান্দা যদি রমজানের শেষ দশদিনের মাসনুন ইতেকাফ যথাযথভাবে আদায় করে তবে আল্লাহ বান্দাকে কী পরিমাণ প্রতিদান দেবেন।

১. লাইলাতুল কদর পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ইতেকাফ। হাদিসে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের মাঝের দশদিন ইতেকাফ করতেন। একবছর এভাবে ইতেকাফ শেষ করার পর যখন রমজানের ২১তম রাত আসল (অর্থাৎ যে রাত শেষে সকালে তিনি ইতেকাফ থেকে বের হলেন) তখন তিনি ঘোষণা করলেন-

‘যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতেকাফ করেছে সে যেন শেষ দশক ইতেকাফ করে। কারণ, আমাকে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল (যে তা শেষ দশকের ওমুক রাতে)। এরপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা লাইলাতুল ক্বদর শেষ দশকে খোঁজ কর।’ (বুখারি)

২. ইতেকাফকারীর অবসর সময়ে কোনো আমল না করলেও তার দিনরাত ইবাদত হিসেবেই গণ্য হয়।

৩. ইতেকাফের উসিলায় অনেক পাপাচার ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা যায়। কেননা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর ঘর যেন একটি প্রকৃত দুর্গ।

৪. ইতেকাফ দ্বারা দুনিয়ার সব ঝামেলা ও সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। ঝামেলা ও সমস্যামুক্ত সময়ে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহ তাআলার কাছে সঁপে দেয়া যায়। রোজার কারণে সারাদিন রোজা পালন ফেরেশতাদের সাথে মানুষের সামঞ্জস্য হয় এবং ফেরেশতাসূলভ আচরণের উপর অবিচল থাকার চমৎকার প্রশিক্ষণ হাসিল হয়।

৫. রোজার যাবতীয় আদব ও হক যথাযথভাবে আদায় করে পরিপূর্ণ রোজা আদায় করার জন্য ইতেকাফ অত্যন্ত কার্যকর।

৬. আল্লাহ তাআলার মেহমান হয়ে তার সঙ্গে মহব্বত ও ভালোবাসা সৃষ্টি করার অন্যতম মাধ্যম মসজিদে ইতেকাফ করা। সশ্রদ্ধভাবে একান্ত মনোবাসনা নিবেদনের জন্য ইতেকাফের বিকল্প ইবাদত দুনিয়াতে সত্যিই বিরল।

৭. সর্বোপরী ইতেকাফকারী ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করার ফলে স্বাভাবিক সময়ের যে সব আমল করতে অক্ষম, সেসব আমলেরও সওয়াব পায় ইতেকাফকারী। যেমন- জানাজায় শরিক হওয়া, অসুস্থদের সেবা করা ইত্যাদি আমল না করেও তার সওয়াবের অংশীদার হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে থাকে।

সুতরাং রোজাদারের উচিত রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফে অংশগ্রহণ করা। কেনানা রমজানের ইতেকাফ পালন যেমন মহান আল্লাহর নির্দেশ আবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাসনুন ইবাদতও বটে।

উল্লেখ্য, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে তার স্ত্রীগণ, সাহাবায়ে কেরামও ইতেকাফ অংশগ্রহণ করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরও এ ধারা অব্যহত থাকে। আজও বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে ইতেকাফ করে থাকেন। তাইতো ইতেকাফ একটি মর্যাদা ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসনুন আমলা। যা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ হক আদায় করে ইতেকাফে অংশগ্রহণ করে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশ পালন ও ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

ইতেকাফের ফজিলত ও উপকারিতা

প্রকাশিত সময় :- ০৯:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩

রোজাদারের ইবাদতের প্রতিযোগিতার আরেক নাম ‘ইতেকাফ’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে কোমড়ে কাপড় বেঁধে ইবাদত-বন্দেগিতে লেগে যেতেন। ইতেকাফের সময়-ক্ষণ, ফজিলত ও উপকারিতায় কোরআন-সুন্নায় রয়েছে অনেক দিকনির্দেশনা। ১৪৪৪ হিজরির রমজানের ইতেকাফ শুরু হবে ১২ এপ্রিল, বুধবার সন্ধ্যায়।

নবিজির (সা.) ইতেকাফ

২০ রমজান ইফতারের আগেই মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করা মাসনুন ইতেকাফের নিয়ম। যা শেষ হবে শাওয়ালের চাঁদ দেখার আগ পর্যন্ত। হাদিসে পাকে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করতেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জেহাদে অংশগ্রহণের কারণে এক রমজান ইতেকাফ করতে পারেননি। যে কারণে তিনি পরবর্তী বছর ২০ দিন ইতেকাফ করে তা পূর্ণ করেছেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর তিনি কোনো রমজান ইতেকাফ ত্যাগ করেনি। হাদিসে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক রমজানে দশদিন ইতেকাফ করতেন। তবে ইন্তেকালের বছর তিনি ২০ দিন ইতেকাফ করেছেন।’ (বুখারি)

কোরআনে ইতেকাফের নির্দেশ

ইতেকাফের ফজিলত ও উপকারিতা অনেক বেশি। যুগে যুগে এ ইতেকাফের প্রচলন ছিল। ইতেকাফ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে হজরত ইবরাহিম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে এভাবে নির্দেশ দিয়েছেন-

وَ عَهِدۡنَاۤ اِلٰۤی اِبۡرٰهٖمَ وَ اِسۡمٰعِیۡلَ اَنۡ طَهِّرَا بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡعٰکِفِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ

‘আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১২৫)

আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমের এ আয়াতে বায়তুল্লাহকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে ইতেকাফ করতে পারে।

ইতেকাফের ফজিলত

হাদিসে পাকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দেন-

‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে এক দিন ইতেকাফ করবে আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা (খন্দক) দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। অর্থাৎ আসমান ও জমিনের মাঝে যত দূরত্ব আছে তার চেয়েও বেশি দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।’ সুবহানাল্লাহ! (বায়হাকি, কানযুল উম্মাল: ২৪০১৯)

ইতেকাফ পালনকারী দুই কবুল হজ ও দুই ওমরার সাওয়াব পাবেন। ইতেকাফের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দেন-

‘যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন ইতেকাফ করবে তার আমল নামায় দুইটি কবুল হজ ও দুইটি ওমরার সমতুল্য সওয়াব লিখা হবে।’ (শুআবুল ইমান ৩৬৮১, কানযুল উম্মাল ২৪০০৬)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘ইতেকাফকারী ইতেকাফের কারণে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং সব নেকির সওয়াব অর্জন করে।’ (আল মুগনি ৩/৪৫৫)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে জামাত প্রতিষ্ঠিত হয় এমন মসজিদে ইতেকাফে থাকবে, নামাজ এবং কোরআন তেলাওয়াত ছাড়া কোনো কথা বলবে না, তার জন্য বেহেশতে মহল তৈরি করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যাবে।’ (কাশফুল গুম্মাহ ১/২১২)

ইতেকাফের উপকারিতা

রোজাদার ইতেকাফকারীর জন্য অনুমানের একটি বিষয় হলো- কোনো বান্দা যদি রমজানের শেষ দশদিনের মাসনুন ইতেকাফ যথাযথভাবে আদায় করে তবে আল্লাহ বান্দাকে কী পরিমাণ প্রতিদান দেবেন।

১. লাইলাতুল কদর পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ইতেকাফ। হাদিসে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের মাঝের দশদিন ইতেকাফ করতেন। একবছর এভাবে ইতেকাফ শেষ করার পর যখন রমজানের ২১তম রাত আসল (অর্থাৎ যে রাত শেষে সকালে তিনি ইতেকাফ থেকে বের হলেন) তখন তিনি ঘোষণা করলেন-

‘যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতেকাফ করেছে সে যেন শেষ দশক ইতেকাফ করে। কারণ, আমাকে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল (যে তা শেষ দশকের ওমুক রাতে)। এরপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা লাইলাতুল ক্বদর শেষ দশকে খোঁজ কর।’ (বুখারি)

২. ইতেকাফকারীর অবসর সময়ে কোনো আমল না করলেও তার দিনরাত ইবাদত হিসেবেই গণ্য হয়।

৩. ইতেকাফের উসিলায় অনেক পাপাচার ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা যায়। কেননা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর ঘর যেন একটি প্রকৃত দুর্গ।

৪. ইতেকাফ দ্বারা দুনিয়ার সব ঝামেলা ও সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। ঝামেলা ও সমস্যামুক্ত সময়ে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহ তাআলার কাছে সঁপে দেয়া যায়। রোজার কারণে সারাদিন রোজা পালন ফেরেশতাদের সাথে মানুষের সামঞ্জস্য হয় এবং ফেরেশতাসূলভ আচরণের উপর অবিচল থাকার চমৎকার প্রশিক্ষণ হাসিল হয়।

৫. রোজার যাবতীয় আদব ও হক যথাযথভাবে আদায় করে পরিপূর্ণ রোজা আদায় করার জন্য ইতেকাফ অত্যন্ত কার্যকর।

৬. আল্লাহ তাআলার মেহমান হয়ে তার সঙ্গে মহব্বত ও ভালোবাসা সৃষ্টি করার অন্যতম মাধ্যম মসজিদে ইতেকাফ করা। সশ্রদ্ধভাবে একান্ত মনোবাসনা নিবেদনের জন্য ইতেকাফের বিকল্প ইবাদত দুনিয়াতে সত্যিই বিরল।

৭. সর্বোপরী ইতেকাফকারী ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করার ফলে স্বাভাবিক সময়ের যে সব আমল করতে অক্ষম, সেসব আমলেরও সওয়াব পায় ইতেকাফকারী। যেমন- জানাজায় শরিক হওয়া, অসুস্থদের সেবা করা ইত্যাদি আমল না করেও তার সওয়াবের অংশীদার হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে থাকে।

সুতরাং রোজাদারের উচিত রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফে অংশগ্রহণ করা। কেনানা রমজানের ইতেকাফ পালন যেমন মহান আল্লাহর নির্দেশ আবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাসনুন ইবাদতও বটে।

উল্লেখ্য, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে তার স্ত্রীগণ, সাহাবায়ে কেরামও ইতেকাফ অংশগ্রহণ করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরও এ ধারা অব্যহত থাকে। আজও বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে ইতেকাফ করে থাকেন। তাইতো ইতেকাফ একটি মর্যাদা ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসনুন আমলা। যা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ হক আদায় করে ইতেকাফে অংশগ্রহণ করে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশ পালন ও ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন