ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস

আদিতমারীতে পাওনা টাকা নিয়ে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে পাওনা টাকা নিয়ে কেন্দ্র করে বন্ধুর দা’র কুপে ফাহিম ফরহাদ (১৬) নামে এক কিশোরের গলাকাটা হত্যা করে একটি বস্তায় ভর্তি করে নদীতে ফেলে দেয়।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বড়াবাড়ি রুহানী নগরে একটি নালা থেকে স্কুলছাত্র ফরহাদ আলীর (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আর ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একই ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী কানিপাড়া এলাকার মৃত সুবাস চন্দ্র রায়ের ছেলে মধু রায় (২০) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে আদিতমারী থানা পুলিশ।
নিহত স্কুল ছাত্র উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওডোবা এলাকার গরু ব্যবসায়ী শাহজাহান আলীর ছেলে এবং সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় নিয়ে মধু রায় ও ফরহাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়। এরই সুত্র ধরে তারা একে অপরের সাথে ঘোরাফেরা ও নেশা সেবন শুরু করে। মঙ্গলবার (৪ জুন) বিকেলে ফাহিম ও মধু রায় একই সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুড়তে বের হয় এবং ফাহিমের বাড়ীর পার্শ্ববর্তি এলাকার শিববাড়ী এলাকায় তারা গাঁজা ও ঘুমের নেশা জাতীয় ট্যাবলেট সেবন করে। পরে তারাঘোরাঘুরি শেষে রাতে মধু রায়কে বাড়িতে নামিয়ে দিতে গেলে বাড়ির পাশে নির্জন জায়গায় গিয়ে আবারও নেশা সেবন করে। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলের টাকা লেনদেন নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে তাকে কাধে উপর্যুপরি কোপ মারে।পরে সেখানেই মৃত্যু হলে বস্তায় লাশ ভড়িয়ে ধান ক্ষেত দিয়ে টেনে নিয়ে পাশের ভেটেশ্বর নদীর পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেয়। পরদিন বুধবার তার খোঁজ না পেয়ে পরিবার থানায় জিডি করলে পুলিশ তদন্তের এক পর্যায়ে মধুকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মরদেহ ও মধুর বাড়ির ধানের ডোল থেলে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করে।
পরে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার আসামীকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে একপর্যায়ে লাশ উদ্ধার করা হলে উত্তেজিত জনতা আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুন নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামীর তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হবে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সাংবাদিককে বলেন, নিখোজের জিডি’র অনুসন্ধানে প্রথমে নিখোঁজের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করে আটক মধুর দেয়া তথ্যমতে ফরহাদের বস্তাবন্দি মরদেহ তার বাড়ির পাশে নালা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফরহাদকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গলায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ নালায় ফেলে দেয়া কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার মধু চন্দ্র। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে।

রেজাউল করিম রাজ্জাক,আদিতমারী-লালমনিরহাট।

আরও পড়ুন>>নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব পণ্যের দাম কমছে

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

 

👉 নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন ✅

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন।

NewsBijoy24.Com

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

আদিতমারীতে পাওনা টাকা নিয়ে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

প্রকাশিত সময় :- ০৬:২০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে পাওনা টাকা নিয়ে কেন্দ্র করে বন্ধুর দা’র কুপে ফাহিম ফরহাদ (১৬) নামে এক কিশোরের গলাকাটা হত্যা করে একটি বস্তায় ভর্তি করে নদীতে ফেলে দেয়।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বড়াবাড়ি রুহানী নগরে একটি নালা থেকে স্কুলছাত্র ফরহাদ আলীর (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আর ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একই ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী কানিপাড়া এলাকার মৃত সুবাস চন্দ্র রায়ের ছেলে মধু রায় (২০) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে আদিতমারী থানা পুলিশ।
নিহত স্কুল ছাত্র উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওডোবা এলাকার গরু ব্যবসায়ী শাহজাহান আলীর ছেলে এবং সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় নিয়ে মধু রায় ও ফরহাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়। এরই সুত্র ধরে তারা একে অপরের সাথে ঘোরাফেরা ও নেশা সেবন শুরু করে। মঙ্গলবার (৪ জুন) বিকেলে ফাহিম ও মধু রায় একই সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুড়তে বের হয় এবং ফাহিমের বাড়ীর পার্শ্ববর্তি এলাকার শিববাড়ী এলাকায় তারা গাঁজা ও ঘুমের নেশা জাতীয় ট্যাবলেট সেবন করে। পরে তারাঘোরাঘুরি শেষে রাতে মধু রায়কে বাড়িতে নামিয়ে দিতে গেলে বাড়ির পাশে নির্জন জায়গায় গিয়ে আবারও নেশা সেবন করে। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলের টাকা লেনদেন নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে তাকে কাধে উপর্যুপরি কোপ মারে।পরে সেখানেই মৃত্যু হলে বস্তায় লাশ ভড়িয়ে ধান ক্ষেত দিয়ে টেনে নিয়ে পাশের ভেটেশ্বর নদীর পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেয়। পরদিন বুধবার তার খোঁজ না পেয়ে পরিবার থানায় জিডি করলে পুলিশ তদন্তের এক পর্যায়ে মধুকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মরদেহ ও মধুর বাড়ির ধানের ডোল থেলে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করে।
পরে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার আসামীকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে একপর্যায়ে লাশ উদ্ধার করা হলে উত্তেজিত জনতা আসামীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুন নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামীর তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হবে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সাংবাদিককে বলেন, নিখোজের জিডি’র অনুসন্ধানে প্রথমে নিখোঁজের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করে আটক মধুর দেয়া তথ্যমতে ফরহাদের বস্তাবন্দি মরদেহ তার বাড়ির পাশে নালা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফরহাদকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গলায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ নালায় ফেলে দেয়া কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার মধু চন্দ্র। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে।

রেজাউল করিম রাজ্জাক,আদিতমারী-লালমনিরহাট।

আরও পড়ুন>>নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব পণ্যের দাম কমছে

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন